Select your Top Menu from wp menus
Last updated: 29/03/2021 at 10:14 PM | আজ বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১ রমজান, ১৪৪২ হিজরি
শিরোনাম

অর্থনৈতিক সূচকে এগোলেও সুশাসনে প্রতিষ্ঠাইয় পিছিয়ে

R D 159623

রেড নিউজ ২৪.কম

নিউজ ডেস্ক : দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেও  শাসনব্যবস্থায় উন্নয়ন ঘটেনি এক বছরে তেমন একটুও। দেশের বাধা হয়ে আছে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল  ।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার উন্নয়নের ধারা সূচনার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের উচিত দ্রুত বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করা ঠিক তেমনি  বিএনপির উচিত যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করা। এমন মত দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক, সুধীসমাজের প্রতিনিধি ও রাজনীতিকের। শনিবার সকালে তাঁরা রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে এমন মত প্রকাশ করেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নযান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) ‘গণতন্ত্র, দল, রাজনীতি’ শীর্ষক বার্ষিক গবেষণা প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে এ আয়োজন করা হয়।
তবে অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন আলোচক দেশে সুশাসনের উন্নয়ন না ঘটলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটত না বলে মত প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, সুশাসন না থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর বিশ্বের সব উন্নয়নশীল দেশেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেয়ে শাসনব্যবস্থায় অগ্রগতি কম হয়। এটি শুধু বাংলাদেশের চিত্র নয়, এটি উন্নয়নশীল বিশ্বের সর্বজনীন চিত্র।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান। বক্তব্য দেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিআইডিজির গবেষণালব্ধ ‘বাংলাদেশ শাসন পরিস্থিতি ২০১৩’ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানের হেড অব রিসার্চ ড. মিনহাজ মাহমুদ। প্রতিবেদনটিতে সুষ্ঠু রাজনৈতিক বিকাশের তিনটি অংশ রাষ্ট্র গঠন, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নানা পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। এতে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনুসরণকৃত নানা রাজনৈতিক চর্চার বিষয়েও পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর একে অন্যের সঙ্গে ও অভ্যন্তরীণ, দলের সঙ্গে ব্যক্তিবিশেষের, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণকারী দলের এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহিংসতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতার উপাত্ত তুলে ধরা হয়। জরিপ, সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার, গুণগত ও পরিমাণগত গবেষণার মাধ্যমে এ তথ্য-উপাত্ত তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ছে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ৪ শতাংশ হারে বেড়েছে। ২০১৩ সালে হানাহানির বেশির ভাগ ঘটেছে এক দলের সঙ্গে অন্য দলের কোন্দলে। এ বছর ৯৩ শতাংশ সংঘর্ষের ঘটনা এক দলের সঙ্গে অন্য দলের এবং ৭ শতাংশ ঘটনা দলগুলোর অভ্যন্তরে ঘটেছে। এসব হানাহানিতে যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তারা এগিয়ে থাকে বলে উল্লেখ করা হয়।
গত এক বছরের রাজনীতি, দল ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নানা বিষয় পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দলগুলোর আদর্শ আর বাস্তব রাজনীতি চর্চার কোনো মিল নেই। দলগুলোতে এখন ব্যবসায়ী ও পরিবারতন্ত্রের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনকে দলীয়করণের মধ্যে দিয়ে রাজনীতিতে ভিন্নমতকে কোণঠাসা করা হচ্ছে। এসব কারণে দেশে অর্থনৈতিক নানা সূচকে উন্নতি হলেও রাজনৈতিক উন্নয়ন তেমনভাবে হয়নি।
রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীদের তেমন কোনো ক্ষমতা নেই উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দলগুলোতে নারীরা শুধু তৃণমূলের কর্মী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্তৃত্ব রয়েছে পুরুষের হাতে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক কারণে নয়, রাজনৈতিক দলগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই নারীদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে। এর কারণ পুরুষদের কাছ থেকে অর্থের জোগান বেশি পাওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মনগড়া কথা নয়। মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এ প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায় যে আমরা যে অবস্থায় আছি, তা স্বাভাবিক অবস্থা নয়। যে অবস্থায় আছি সেখান থেকে কিভাবে বের হতে পারি, সেটি নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। সংবিধানের মূল বিষয়ে আমাদের ঐক্য থাকতে হবে।’
বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, ‘দেশের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমরা সবাই সংলাপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। তবে শুধু দুই দলের সংলাপ নয়। সংবিধানের মূলনীতি মেনে ছোট-বড় সব দলের মধ্যে সংলাপ হওয়া উচিত।’ জামায়াত যদি সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি মেনে রাজনীতি করতে চায়, তবে তাতে কারো আপত্তি থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন ড. কামাল হোসেন।
প্রতিবেদনটি নিয়ে আলোচনায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে অথচ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে না- বিষয়টি এমন নয়। শাসনব্যবস্থা ঠিকঠাক না থাকলে দেশের উন্নয়ন হতো না।’ উদাহরণ হিসেবে সুরঞ্জিত বলেন, ‘আপনি সারা দিন লুট করে টাকা-পয়সা নিয়ে পরিবারের হাতে তুলে দিলেন, পরিবার যদি বিশৃঙ্খল থাকে তবে তারা টাকা ধরে রাখতে পারবে না, উড়িয়ে দেবে। রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।’
বিএনপির সঙ্গে সংলাপের প্রসঙ্গে সুরঞ্জিত বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে রাজাকার বলার মতো পরিস্থিতিতে চলে গেলে সংলাপের পরিবেশ থাকে না। সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশ সৃষ্টিতে সবারই ত্যাগ থাকতে হবে। সংলাপ চাইলে বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে হবে।’
আলোচনায় ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতেও উন্নতি হয়েছে। আরো উন্নতি হবে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও আমরা শিগগিরই উন্নতি সাধন করব বলে আশা করি।’
অর্থনৈতিক উন্নয়নের তুলনায় রাজনৈতিক অনুন্নয়নের বিষয়ে আলোচনায় ড. বিনায়ক সেন বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে; কিন্তু রাজনৈতিক উন্নয়ন হয়নি, তৃতীয় বিশ্বে এ রকম দেশেরই সংখ্যাধিক্য রয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হচ্ছে- বিষয়টি এমন নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর আলাপ-আলোচনা শুরু করা উচিত। এটি শুরুর জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের উচিত অবিলম্বে সংলাপ শুরু করা। বিএনপির উচিত জামায়াতের সঙ্গ পরিত্যাগ করা। জামায়াতের উচিত একাত্তরের ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।’
তবে আলোচনায় জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কে কার সঙ্গে জোট করবে সেটি তার নিজস্ব ব্যাপার। এ বিষয়ে সবার স্বাধীনতা থাকা উচিত। যে যার সুবিধামতো জোট করবে; এতে কোনো বাধা থাকা ঠিক নয়। আর এক দলের সুবিধার জন্য অন্যকে তার জোটসঙ্গী ত্যাগ করতে চাপ দেওয়া যুক্তিসংগত নয়।

About The Author

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *