Select your Top Menu from wp menus
Last updated: 29/03/2021 at 10:14 PM | আজ শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ রমজান, ১৪৪২ হিজরি
শিরোনাম

গৃহস্থালীতে গ্যাস সংযোগ থাকছে না

Gaz
নিউজ ডেস্ক : আবাসিক খাতে কোন গ্যাস সংযোগ রাখবে না সরকার। পর্যায়ক্রমে গ্যাসের এই সংযোগ প্রত্যাহার করা হবে। গ্যাস সঙ্কট নিরসনের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এমন পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে গ্রাহকদের কাছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস-এলপিজি পৌঁছে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহল। বিস্ময়কার হলেও সত্য যে, আবাসিকখাতে নতুন করে গ্যাস সংযোগ না দেয়ার কারণে অনেক ভিআইপি-সিআইপি ব্যক্তিও এখন অবৈধ গ্রাহকের তালিকায় রয়েছেন।

পেট্রোবাংলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে অবৈধ গ্রাহকের সংখ্যা সংখ্যা সাড়ে ৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এসব গ্রাহকরা অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়েছে এবং ব্যবহারও করছে। আর আবাসিক খাত থেকে গ্যাস সংযোগ প্রত্যাহার করে নেয়া হলে সার্বিক পরিস্থিতি শোচনীয় আকার ধারণ করবে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা বিষয়ে বিতরণ কোম্পানিগুলো জানায়, গ্যাস অ্যাক্ট থাকলেও তা কাজে আসছে না। স্থায়ীভাবে তাদের সংস্থায় কোনো ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় এ সংক্রান্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের কাছে বার বার চিঠি লেখার পরেও সাড়া মিলছে না। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনেক সময় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে পাওয়া যায় না। হুমকির মুখে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করেই কোনো কোনো সময় টাস্কফোর্সকে অভিযান গুটিয়ে ফিরে আসতে হয়।

বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাসিকসংযোগ রয়েছে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির। সেখানে মোট বৈধ আবাসিক গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। এরপর কর্ণফুলী এবং বাখরাবাদ কোম্পানির অবস্থান। স্বাভাবিকভাবে তিতাস, কর্ণফুলী ও বাখরাবাদেই অবৈধ সংযোগের সংখ্যা বেশি। বর্তমানে কোন কোন এলাকায় কোনটা বৈধ আর কোনটা অবৈধ সেটা চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, আবাসিকখাতে গ্যাস সংযোগ পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনার কথা ভাবছে সরকার। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস-এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে আবাসিকখাতে গ্যাস সংযোগ রাখার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, এলএনজি নিশ্চিত করতে মহেশখালী ও খুলনায় দু’টি টার্মিনাল করা হচ্ছে। তার মতে, আবাসিকে ১২ শতাংশ, সিএনজিতে ৬ শতাংশ এবং ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৭ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ক্যাপটিভ বন্ধ করে দেয়া হবে। সিএনজির বদলে এলএনজি দেয়া হবে গাড়িতে। সেইসাথে সরকার আবাসিক খাতে এলপিজি দেয়ার পরিকল্পনা করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫৫ সালে বাংলাদেশের হরিপুরে যখন প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মেলে, তখন মূল্যবান এই প্রাথমিক জ্বালানিটির বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ছিলো না বললেই চলে। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়াতে, আবাসিক খাতে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস-পিএনজি’র সরবরাহ শুরু করে বিতরণ ও সঞ্চালন কোম্পানি তিতাস। যার বর্তমান ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন প্রায় ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, সরকার যদি মনে করে পাইপ লাইনের পরিবর্তে এলপিজি গ্যাস আবাসিক খাতে প্রতিষ্ঠা করবো এটা আদর্শগতভাবে ঠিক আছে। কিন্তু এলপিজি এবং পাইপ লাইন গ্যাসের সঙ্গে সরকার যদি সমন্বয় না করতে পারে তাহলে এ সিদ্ধান্ত সার্থক হবে না। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধ্যাপক ড. ম তামিম মনে করেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকবে। তার মতে, গ্যাস থাকলেও কূপের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদনও কমে যাবে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রমাণিত ও সম্ভাব্য মিলে ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। আর বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর সমালোচনা করে বলেন, বিদ্যুতে গ্যাসের বিকল্প রয়েছে। সেখানে কয়লা ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে শিল্পে গ্যাসের বিকল্প নেই। সেখানে সরবরাহ বাড়ানো উচিত। তাতে কর্মসংস্থান বড়বে। তিনি সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেন, ২০৩০ সালে গ্যাস দিয়ে সাড়ে ৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ততোদিন গ্যাস থাকবে তো? পেট্র্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী, রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্স সালদা, ফেঞ্চুগঞ্জ, শাহবাজপুর, সেমুতাং, সুন্দলপুর, শ্রীকাইল ও বেগমগঞ্জ গ্যাসফল্ডি থেকে ১২টি কূপ থেকে দৈনিক ১৩৬.২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করছে।

এছাড়াও দেশীয় কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড ৩৮টি কূপ থেকে দৈনিক ৮২৪ মিলিয়ন ঘনফুট, সিলেট গ্যাসফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড ৫টি গ্যাসফিল্ডের ১৩টি কূপ থেকে ১৫৩.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করছে। অন্যদিকে, বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন দেশের তিনটি গ্যাসফিল্ডের ৩৪টি কূপ থেকে দৈনিক ১৫শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করছে। এ ছাড়া ক্রিস এনার্জি ভাঙ্গুরা গ্যাসফিল্ডের ৪টি কূপ থেকে দৈনিক ১০৫.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করছে।

 

About The Author

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *