Select your Top Menu from wp menus
Last updated: 29/03/2021 at 10:14 PM | আজ মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০ চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০ শাবান, ১৪৪২ হিজরি
শিরোনাম

নদী বাঁচাও-চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাঁচাও গোলটেবিল বৈঠক

ইমরান আলী : নদী বাঁচাও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাঁচাও গোলটেবিল বৈঠক হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ‌ সেভ দ্য নেচার চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্যোগে ১২মে (শনিবার) সকালে শহরের সাধারণ পাঠাগারে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে আলোচক ছিলেন নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোহাঃ দাউদ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুকেশ কুমার, সমাজ সেবক মনিম উদ দৌলা চৌধুরী, শফিকুল আলম ভোতা, এ্যাড. সাইফুল ইসলাম রেজা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা, পাগলা, পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন সেভ দ্য নেচার চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান সমন্বয়ক গণমাধ্যমকর্মী রবিউল হাসান ডলার, সমন্বয়ক শহীদুল হুদা অলক, এম মাহবুব আলম। বক্তারা বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা নদীগুলো মরে গিয়ে বর্তমানে মরভুমিতে পরিনত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ময়লা পানি মহানন্দায় পড়ায় পানি দূষিত হচ্ছে। শহরের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীর তীরে। নদীর নাব্যতা হারায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। ফলে প্রকৃতিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জকে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদীগুলোকে বাঁচাতে সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানানো হয় গোলটেবিল বৈঠকে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রবীন সাংবাদিক ডি.এম তালেবুন্নবী, মুক্তিযোদ্ধা তসলিম উদ্দিন, স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ‘চাঁপাই দৃষ্টি’র সম্পাদক এমরান ফারুক মাসুম, ‘চাঁপাই দর্পণ’র সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, ‘গৌড় বাংলা’র সম্পাদক হাসিব হোসেন, শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা। গোলটেবিল আলোচনায় পাঠ করা মূলপ্রবন্ধে বলা হয়, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এই জেলা দিয়ে পদ্মা, মহানন্দা, পাগলা ও পূনর্ভবা নদী প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা পদ্মা নদীর দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার, মহানন্দা নদীর দৈর্ঘ্য ৯৫, পাগলা নদীর দৈর্ঘ্য ৪১ ও পূনর্ভাবা নদীর দৈর্ঘ্য ১৫ কিলোমিটার। হিমালয়ের পাদদেশে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষ মৌসুমে বিপুল পরিমান পলি উজান থেকে আসে।
অপরদিকে জেলা শিবগঞ্জ উপজেলার পাংখা পয়েন্ট থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ ও অপর তিনটি নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে পানির প্রবাহ সারাবছরই কম থাকে। স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় ভরাট হয়ে এ নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়। নদীগুলো শুধু পানিরই আধার নয়, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাতে রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় যেমন ৪টি নদী নাব্যতা হারিয়েছে, তেমনই নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী জাতের মাছসহ নানা মেরুদ-ি-অমেরুদ-ি প্রাণীসহ জলজ উদ্ভিদ। পদ্মা ও মহানন্দা নদীর প্রাণ শুশুক আজ বিপন্ন। এভাবে চলতে থাকলে একসময় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে পদ্ম, মহানন্দা, পাগলা ও পূনর্ভবা নদী। মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পরিবেশের উপর পড়বে বিরুপ প্রভাব।
আরো উদ্বেগের বিষয় পদ্মা, মহানন্দা ও পাগলা নদী থেকে এক শ্রেণির লোক অবৈধ্যভাবে উত্তোলন করছে মাটি ও বালু। মৃতপ্রায় মহানন্দা নদী তীর দখল করেছে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ। এছাড়াও পৌরসভার সব ড্রেনের পানি গিয়ে পড়ছে মহানন্দা নদীতে। ড্রেনের পানিতে দূষিত হচ্ছে নদী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের খালঘাটে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার সমস্ত বর্জ্য। এতেও নদীর তীর দূষিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ ‘ক’-এ পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন-এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য সংরক্ষন ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।
এছাড়াও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন-২০১৩ নামে একটি আইন সংসদে পাস হয়। ওই আইনে উল্লেখ করা হয়, নদীর অবৈধ দখল, প্রাণি ও পরিবেশ দূষণ, শিল্প কারখানা কর্তৃক সৃষ্ট নদী দূষণ, অবৈধ কাঠোমো নির্মাণ ও নানাবিধ অনিয়ম রোধকল্পে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পূনরুদ্ধার, নদীর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন এবং নৌ-পরিবহনযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনে একটি কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন। কিন্তু দূর্ভাগ্যের সাথে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ ‘ক’ এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন-২০১৩ অনুযায়ী এ জেলায় প্রত্যাশিত ভূমিকা গ্রহণ করছে না। সংবিধানে জলাধার সংরক্ষণ এবং নদী রক্ষা কমিশনের তৃতীয় অধ্যায়ের ১২ নম্বর ধারায় নদী অবৈধ দখলমুক্ত এবং পূনঃদখলরোধ করা, নদী তীর দূণষমুক্ত রাখা এবং বিলুপ্ত বা মৃতপ্রায় নদী খনের বিষয় সরকারকে সুপারিশ প্রদান করবে কমিশন।
কিন্তু পাগলা নদী খনন ও মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত ছাড়া উপরোক্ত কোন বিষয় কোন প্রতিষ্ঠানকে এমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে আমরা দেখিনি। পাগলা নদী খননের বিষয়ে আমরা মনে করি পুরো নদী খনন না করে আংশিক করলে নদীতে আবারো পলি জমে নাব্যতা হারানোর আশংকা রয়েছে। এছাড়া মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ করলে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যহত হবে এবং রাবার ড্যামের বিপরীতে দিকে পানি শূণ্যতা দেখা দিবে। এতে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। সেভ দ্য নেচার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মনে করে, মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ না করে নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
অবিলম্বে জেলার মিঠা পানির উৎস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ জেলার ৪টি নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নদীর তীর দখল বন্ধ, ড্রেনের পানিতে মহানন্দা নদী দূষণ বন্ধ করতে হবে। পরিবেশ বিপর্যয় থেকে শুরু করে আর্থ রাজনৈতিক নানা কারণে এ নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ আজ সংকটের সম্মুখিন। বিষয়টি সবাইকে চিন্তার মধ্যে রাখতে হবে। আর এতেই নদী বাঁচতে, বাঁচবে প্রাকৃতিক পরিবেশ। তাই সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নদী রক্ষায় সকলেই সোচ্চার হই।

About The Author

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *