Select your Top Menu from wp menus
Last updated: 29/03/2021 at 10:14 PM | আজ মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০ চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০ শাবান, ১৪৪২ হিজরি
শিরোনাম

নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলে আন্তর্জাতিক দিবসে অধিকার’র সভা

Press Release_Odhika   -(p1)

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অভাবে এবং অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে সমাজ সহিংস হয়েউঠেছে। বাংলাদেশের নারীরা ক্রমাগতই যৌতুক, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ এবং এসিড সহিংসতাসহ বিভিনড়ব ধরনের সহিংসতার শিকার হলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া, দুর্বল তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসনে দুর্নীতি,সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে অপরাধীরা ক্রমাগতদায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে।

আজ ২৫ নভেম্বর নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে অধিকার কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অধিকার এর জেন্ডার বিশেষজ্ঞ তাসকিন ফাহমিনার সভাপতিত্বে অনুঠিত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর আহবায়ক বহ্নি শিখা জামেলী, সাংবাদিক কাজী জেসিন, উবিনীগের গবেষক রোকেয়া বেগম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সায়রা রহমান খান, এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, অধিকার এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান, পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলান প্রমুখ।

আলোচনার শুরুতে অধিকার এর তথ্যায়ন ও গবেষণা কর্মকর্তা সামিয়া ইসলাম উল্লেখিত বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। অধিকার এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর ২০১৫ পর্যন্ত যৌতুক সহিংসতার কারণে ৯৮ জন নারীকে হত্যা এবং ৬৩ জন নারীর প্রতি সহিংস আচরণ করা হয়েছে। সহিংসতা সইতে না পেরে ৬ জন নারী আতড়বহত্যা করছেন বলে জানা গেছে। একই সময়ে ৩৩ জন নারী ও মেয়ে শিশু এসিড সহিংসতার শিকার এবং ২৫৩ জন নারী ও ৪০৯ জন মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫৬ জন নারী বখাটেদের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৭৯ জন নারী ও মেয়ে শিশু।

অধিকার এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান বলেন, দেশের ৩০টি জেলায় অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার রক্ষাকর্মীরা দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি পালন করেছে। এদের মধ্যে মাদারীপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে প্রসাশনের পক্ষ থেকে মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয়েছে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নামের যেই তিন মূলনীতির ভিত্তিতে সকল জনগণের অংশগ্রহণে দেশ স্বাধীন হয়েছিল বর্তমান শাসক গোষ্ঠি সেই লক্ষ্য সরে গেছে।
শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর আহবায়ক বহ্নি শিখা জামেলী বলেন, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ভালো ভালো কথা বললেও ক্ষমতায় আসলেই সেই অবস্থান থেকে সরে যায়। দেশের সমস্ত অর্জনেই নারীর গুরুত্ব অনেক অথচ নারীর কোন নিরাপত্তা নেই। এই সমাজ ব্যবস্থা ভাঙতে সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিক নির্বাহী কাজী জেসিন বলেন, আমরা একটি বোধ প্রতিবন্ধী সমাজ ব্যবস্থায় বসবাস করছি। যেই সমাজ দেখছে, শুনছে কিন্তু বুঝতে পারছে না। আমাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই প্রতিষ্ঠিত করতে এই সমাজ ব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে হবে। উবিনীগের গবেষক রোকেয়া বেগম, বর্তমান সময়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই। সরকারের পুলিশ বাহিনী কাউকেই রাস্তায় নামতে দিচ্ছে না। এমনকি ঘরে বসে প্রতিবাদ করার মাধ্যমগুলোও দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেয়া এটারই প্রমাণ।
সভায় বক্তরা আরো বলেন, বর্তমান সময়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায়ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচার ব্যবস্থার অনুপস্থিতির কারণেই এই ঘটনাগুলো দিন দিন বেড়েই চলেছে।

About The Author

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *