Select your Top Menu from wp menus
Last updated: 29/03/2021 at 10:14 PM | আজ মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০ চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০ শাবান, ১৪৪২ হিজরি
শিরোনাম

পথচারীরা সচেতন হচ্ছেন ।

 

544959_894257737251560_748411979307262679_n

রেড নিউজ ২৪.কম

পুলিশের নজরদারির মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে গত কয়েকদিনের অভিযানে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের প্রবনতা বেড়েছে। বলা যায়, সচেতন হচ্ছেন পথচারীরা।

কোথাও কোথাও সড়ক পারাপারে ফুটওভার ব্রিজের নীচে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এ সময় স্কুলগামী সন্তানদের নিয়ে অভিভাবক, অফিসগামী নারী-পুরুষ এবং রোগীদের বেশি সমস্যা হয়েছে।

ভুক্তভোগিরা বলেছেন, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য পুলিশ প্রশাসন যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে ফুটওভার ব্রিজ এবং আন্ডারপাসগুলোর সংস্কার না করে এ ধরনের উদ্যোগ জনদূর্ভোগ বাড়াবে। এছাড়া সাধারনত মানুষ যেসব জায়গা দিয়ে সড়ক পার হন সে সব জায়গায় ফুটওভার ব্রিজগুলো আরো প্রশস্ত করা উচিৎ।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর শাহবাগের বারডেম হাসপাতালের সামনে ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহারে পথচারীদের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। কাছেই শাহবাগ থানা এবং হোটেল রূপসী বাংলার সামনে পুলিশের আনাগোনা থাকলেও এখানে ফুটওভার ব্রিজের পরিবর্তে পথচারিদের ঝুঁকি নিয়েই সড়ক পারাপার হতে দেখা গেছে।

বিশেষ করে বারডেমের গেটের সামনে আইল্যান্ডে কাঁটাতার না থাকায় পথচারিদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে আড়াআড়ি ভাবে সড়ক পাড় হতে দেখা গেছে। সড়কের দুই প্রান্তে বারডেম ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকাল বিশ্ববদ্যালয় আসা রোগীদেরকেই নিয়ম ভাঙ্গতে দেখা যায়। এই ফুটওভার ব্রিজটি অনেকটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ব্রিজটির সিঁড়িগুলো নড়বড়ে, লোহার পাটাতন কোথাও কোথাও জং পড়ে বিপদজনক অবস্থা। এরপরও আশ্রয়হীনরা এখানে ঘুমিয়ে থাকে এছাড়া হকাররা নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসে পথচারিদের চলাচলে বিগ্ন ঘটায়।

মিরপুরের হালিমা বেগম তার মাকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। চিকিৎসক তার মায়ের একটি পরীক্ষার জন্য পাশেই বারডেম হাসপাতালে পাঠান। হালিমা বেগম তার বৃদ্ধ মাকে নিয়ে অনেকটা ঝুঁকির মধ্যেই ফুটওভার ব্রিজের নীচ দিয়ে সড়ক পার হন।

ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অনেকটা অসহায় কন্ঠে বলেন, জানি এভাবে পার হওয়া ঠিক নয়। যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। বৃদ্ধা মাকেতো সিঁড়ি বেয়ে ওঠানো সম্ভব নয়। তাই ঝুঁকি নিয়েই সড়ক পার হতে হলো।

এদিকে পরীবাগের ফুটওভার ব্রিজটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল। সড়কে কোন কাঁটাতারের বেড়া বা কোন প্রতবিন্ধকতা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই পথচারীরা সড়ক পার হতেন। এখন আইল্যান্ডের উপর গ্রিল বসানোর ফলে ওই ফুটওভার ব্রিজটা ব্যবহার হচ্ছে।

কয়েক বছর আগে জনকন্ঠের সাংবাদিক ইউসুফ পাশা সড়ক পার হওয়ার সময় বাংলামটরে একটি দ্রুতগামী বাসের চাপায় জীবন হারান। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় এ সড়ক পারাপারের সময় বেশ ক’জন জীবন হারিয়েছে, আহত হয়েছেন অনেকেই।

বাংলামটর অত্যন্ত ব্যস্ততম একটি এলাকা। ধানমন্ডি, সাইন্সল্যাবরেটরি, হাতিরপুল, গ্রিণরোড, কাঁঠালবাগানসহ সড়কের পশ্চিম পাড় থেকে বাংলামটর হয়ে মগবাজারসহ এর আশপাশ এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বাংলামটর এলাকা জনসমাগম থাকে। অথচ বাংলামটর ফুটওভার ব্রিজ নিয়ে পথচারিদের অভিযোগ অনেকদিন ধরেই। ফুটওভার ব্রিজটি দিয়ে পাশাপাশি দু’ লাইনে চলাচল সম্ভব নয়। বিশেষ করে ব্রিজের পূর্ব পাশে এমএইচকে ভবন ঘেসে যে সিঁড়ি রয়েছে তা এতই সরু পাশাপাশি দু’জন চলাফেরা কঠিন।

অফিসগামী নাজমা সুলতানা থাকেন মগবাজারে। তার অফিস গ্রিনরোডে। ফ্লাইওভার নির্মান কাজ চলায় মগবাজারেও তাকে দূভোর্গ পোহাতে হয়। এখন বাংলামটরে ফুটওভার ব্রিজ পাড়ি দিতে লম্বা লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে বিরক্ত হয়েই অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হলেন নাজমা সুলতানা।

ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হওয়া আরেক পথচারী স্ট্যামফোর্ড বিশ্ব বিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র তামিম রাইজিংবিডিকে বলেন, নীচ দিয়ে সড়ক পাড় হয়ে কাজটি ঠিক করিনি। তবে সঙ্গে বড় ব্যাগ থাকায় এমনটি করতে হলো।

এদিকে কাওরান বাজার আন্ডারপাস দিয়ে পারাপারের সংখ্যা এখন আগের চেয়েও অনেক বেড়েছে। পুলিশ সদস্যরা কড়া নজর রাখছেন। কেউ সড়ক আড়াআড়ি অতিক্রম করা চেষ্টা করলে তাকে ধরে আন্ডারপাস দিয়ে পাঠিয়ে দেন।
ডেইলি স্টার সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজটি বেশ ব্যস্ত দেখা গেছে। কাওরান বাজার থেকে বাজার করে বিভিন্ন পণ্য ও বোঝা বহন করে ওই পথেই যেতে হয়। এছাড়াও আইল্যান্ডে কাঁটাতারের বেড়া থাকায় পথচারিদের বাধ্য হয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্তমানে ফুটওভার ব্রিজটির সম্প্রসারন কাজ চলছে। আগে একমুখী যাতয়াতের সুবিধা ছিল। যা এখন দ্বি-মুখী করা হচ্ছে।

জনবহুল ফার্মগেট এলাকায় মোট তিনটি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে আনন্দ সিনেমা হল সংলগ্ন ব্রিজটি ব্যবহারের অযোগ্য। এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আর বড় ব্রিজটি দিয়ে বিপুল সংখ্যক পথচারি পারাপার হন। ব্রিজের তিনটি মুখেই হকার থাকায় পথচারিদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
বিশেষ করে মহিলাদের চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা নুসরাত জাহান। তিনি বলেন, এখানে প্রতিদিনই কোন না কোন বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। বিশেষ করে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামার সময় ধাক্কা খেতে হয়।

এদিকে পুলিশের উপস্থিতির কারনে খামারবাড়ি সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজটি যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে। তবে বিজয় স্মরণি সংলগ্ন ফ্লাইওভার ব্রিজ দিয়ে পথচারি খুব কমই চলাচল করে।

অভিযান প্রসঙ্গে সরোয়ার আলম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘জনগণ যত্রতত্র রাস্তা পারাপার এবং দূর্ঘটনা এড়াতে দ্বিতীয় দিনে মোট মামলা হয়েছে ১৪২টি এবং জরিমানা আদায় হয়েছে ৫ হাজার ৮০০ টাকা। যেখানে প্রথম দিন মঙ্গলবার মামলা ছিল ১৭২টি। আর জরিমানার পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৯৩৫ টাকা। এ থেকে অনুমিত হচ্ছে যে, রাস্তা পারাপারে পথচারীরা সচেতন হচ্ছে।
ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল ক্দ্দুুস জানান, রাজধানীর বাংলামোটরে ‘দ্বিতীয় দিন বুধবার মামলা হয়েছে ১১৪টি। আর জরিমানা আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৯১৫ টাকা। আর প্রথমদিন মামলা ছিল ১৫৯টি এবং জরিমানার পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ১৬০ টাকা।

জনগণ সচেতন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মানুষ সচেতন হোক এবং দূর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা কমে যাক সেটাই আমাদের কাম্য।

তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত মোট ৭টির মতো মামলা ও ৫ হাজার টাকার মতো জরিমানা করা হয়েছে।

About The Author

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *