Select your Top Menu from wp menus
Last updated: 29/03/2021 at 10:14 PM | আজ মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০ চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০ শাবান, ১৪৪২ হিজরি
শিরোনাম

ভারতের প্রধান বিচারপতি রতন টাটাও সহিষ্ণুতা নিয়ে মুখ খুললেন

এক জন দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রধান। অন্য জন, দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প সংস্থার চেয়ারম্যান এমেরিটাস। সাম্প্রতিক অসহিষ্ণুতা বিতর্কের আবহে আজ মিলে গেল

দেশের প্রধান বিচারপতি তীর্থ সিংহ ঠাকুর এবং রতন নভল টাটার পর্যবেক্ষণ। দুই শহরে তাঁরা দু’জনে যা বললেন তার নির্যাস— ভারতের মূল সুরটি হল সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতির।

দায়িত্ব নিয়েছেন বৃহস্পতিবার। আজ নয়াদিল্লিতে প্রধান বিচারপতি বললেন, ‘‘যে ধর্মেরই হোন না কেন, কোনও ভারতবাসীর নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কারণ নেই। দেশের শীর্ষ আদালত এ ব্যাপারে গা-ছাড়া মনোভাব দেখাবে না।’’ তাঁর কথায়, যত দিন আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা রয়েছে, কারও ভয় নেই।

গোমাংস খাওয়ার অভিযোগে দাদরিতে সংখ্যালঘু প্রৌঢ়কে হত্যা থেকে শুরু করে এম এম কালবুর্গী, গোবিন্দ পানসারে, নরেন্দ্র দাভোলকরের মতো যুক্তিবাদীদের খুন— সাম্প্রতিক অতীতে এমন একের পর এক ঘটনার জেরে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ-পাল্টা বিক্ষোভ চলেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন নানা মহলের বিশিষ্টরা। সরকারি পুরস্কার ফিরিয়েও দিয়েছেন অনেকে। এই আবহে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতির কথা যদি হয় দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষার প্রত্যয়, সে ক্ষেত্রে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এমেরিটাসের মন্তব্যে

অসহিষ্ণুতার অবসানের পথটির দিশা দেখতে পাচ্ছেন অনেকে। উপলক্ষ ছিল মুম্বইয়ে একটি মার্কিন অনলাইন শিক্ষা সংস্থার সঙ্গে টাটা গোষ্ঠীর গাঁটছড়া ঘোষণার সাংবাদিক বৈঠক। সেখানেই রতন টাটা বলেন, ‘‘শিক্ষা বা চাকরির মতো বিষয়গুলো অসহিষ্ণুতা কমিয়ে আনতে, তা দূর করতে সাহায্য করে। কারণ, তা জ্ঞানের উন্মেষ ঘটায়। জ্ঞান দূর করে অসহিষ্ণুতাকে।’’

টাটা মনে করেন, চারপাশের জগতে যে অসহিষ্ণুতা ক্রমশই বেড়ে চলেছে, তাতে ইন্ধন না দিয়ে এখন একসঙ্গে থাকাটাই কর্তব্য। তাঁর কথায়, ‘‘বরাবর সম্প্রীতির আবহে ভর করেই এগিয়েছে ভারত। আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে, একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’’ টাটা যদিও বলেছেন, ‘‘অসহিষ্ণুতা নিয়ে এখন টিভিতে যা দেখানো হচ্ছে, সে সবের মধ্যে আমি ঢুকতে চাই না।’’ কিন্তু তাঁর পর্যবেক্ষণকে ইনফোসিস প্রতিষ্ঠাতা এন নারায়ণমূর্তি, বায়োকনের চেয়ারপার্সন কিরণ মজুমদার শ কিংবা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর রঘুরাম রাজনের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়ার থেকে আলাদা করে দেখছেন না অনেকেই। এঁরা প্রত্যেকেই অসহিষ্ণুতা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। এ বার রতন টাটা মুখ খোলায় নরেন্দ্র মোদী সরকারের উপরে আরও চাপ বাড়ল বলে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য।

ঘটনাচক্রে, আজ অন্য একটি প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন মোদী নিজেও। আজ বাবাসাহেব ভীমরাও অম্বেডকরের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর স্মারক মুদ্রা প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী টুইট করেন, ‘‘ঐক্য ও সম্প্রীতি বিষয়ে অম্বেডকরের ভাবনা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। সরকার তাঁর স্বপ্ন পূরণ করবেই।’

About The Author

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *