Select your Top Menu from wp menus
Last updated: 29/03/2021 at 10:14 PM | আজ মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০ চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০ শাবান, ১৪৪২ হিজরি
শিরোনাম

হামলার ভয়ে থানার গেটে তালা লাগালো পুলিশ!

১২ ডিসেম্বর, ২০১৫, সকাল ০৯:৪৭

polis

নিউজ ডেস্ক : ভারতে থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর আক্রমনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। আলিপুরের পরে এবার শ্যামপুকুর থানায় নিজ ঘরে আক্রান্ত পুলিশ। বস্তির এক কিশোরকে থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত জনতা শুক্রবার শ্যামপুকুর থানায় ঢুকে ভাঙচুর চালায়, বেদম পেটায় পুলিশকর্মীদের। নিজেদের শিবিরে জনতার মার খেয়ে আত্মরক্ষার তাগিদে ভিতর থেকে থানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে থাকেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা।

সম্প্রতি আলিপুর থানায় শাসক দলের একাংশের মদতে তুমুল তাণ্ডব চালায় এলাকার এক দল বাসিন্দা। যুযুধান জনতার রোষ থেকে বাঁচতে ফাইলপত্রকে ঢাল করে টেবিলের নীচে ঢুকে পড়ে পুলিশ। এ দিনের হামলার পরে ত্রস্ত পুলিশ কোনও ঝুঁকি না-নিয়ে তালা লাগায় থানায়।

পুলিশি সূত্রের খবর, এলাকায় অশোভন আচরণ করার অভিযোগে শুক্রবার শ্যামপুকুর থানার পার্শ্ববর্তী কানা রাজাবাগান বস্তি থেকে সুজয় রাউত নামে এক কিশোরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরেই ওই এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ থানায় চড়াও হয়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বস্তিবাসী কিছু মহিলা থানায় ঢুকে একটি অ্যাকোয়ারিয়াম, কম্পিউটার এবং জানলার কাচ ভেঙে দেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন এলাকার বেশ কিছু যুবকও। ধৃত কিশোরকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকে জনতা। পুলিশ সেই দাবি না-মানায় তারা ভাঙচুর শুরু করেন। মারমুখী যুবকদের বাধা দিতে গিয়ে কনস্টেবলরা প্রহৃত হন। সব মিলিয়ে আহত হন তিন জন পুলিশকর্মী। তার পরেই ধৃত কিশোরকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বেরিয়ে যায় জনতা।

কয়েক দিন আগেই শ্যামপুকুর থানার সামনে জনতার হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক পুলিশকর্মী। এ দিন হামলার পরে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কানা রাজাবাগান বস্তির বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের ব্যাপক মারধর করেছে। পুলিশের মারধরে এক মহিলা-সহ এলাকার তিন বাসিন্দা জখম হন। সোমা দত্ত নামে এক বস্তিবাসী বলেন, সুজয়ের দিদি মিনু রাউত পুলিশের মারধরে গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের পিটুনিতে বস্তির কয়েকজন যুবকও জখম হন বলে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ।

অভিযুক্ত সুজয়ের দিদিমা ছায়া দাস বলেন, ”আমার নাতি কোনও অশোভন আচরণ করেনি। দুই বন্ধুর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল মাত্র। আমরা মিটিয়েও দিয়েছিলাম। তার পরে পুলিশ এসে নাতিকে থানায় নিয়ে গিয়ে মারধর করে। আমরা ওকে থানা থেকে নিয়ে আসি।” রাতেই বাসিন্দারা শ্যামপুকুর থানার ওসিকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

ক্ষিপ্ত জনতা অভিযুক্তকে নিয়ে বেরিয়ে যেতেই পুলিশকর্মীরা ভিতর থেকে থানায় তালা ঝুলিয়ে দেন। যাতে আর কেউ ঢুকতে না-পারেন। বেশি রাত পর্যন্ত গেটে তালা ঝুলছিল। পুলিশকর্মী ছাড়া কাউকে থানায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি।-সূত্র: আনন্দবাজার।

About The Author

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *